আজিজুর রহমান রাজু:
কক্সবাজারের ঈদগাঁও উপজেলার ইসলামপুরে আলোচিত সেলিম বাবু হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের গ্রেপ্তার ও ফাঁসির দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) বিকেল ৫টায় ইসলামপুর নতুন অফিস বাজারসংলগ্ন মহাসড়কে স্থানীয় এলাকাবাসী ও নিহতের স্বজনদের উদ্যোগে এ কর্মসূচি পালন করা হয়।
মানববন্ধনে অংশ নিয়ে বক্তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, স্থানীয় ইউপি সদস্য নূর মোহাম্মদের নেতৃত্বে একটি সন্ত্রাসী চক্র সেলিম বাবুকে রাতভর পৈশাচিক নির্যাতন চালিয়ে হত্যা করেছে।
তারা অভিযোগ করেন, নির্যাতনের একপর্যায়ে পানি চাইলে তাকে অমানবিকভাবে বঞ্চিত করা হয়, যা নির্মমতার চূড়ান্ত উদাহরণ। বক্তারা দ্রুত আসামিদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি—ফাঁসি কার্যকরের দাবি জানান।
সমাবেশে বক্তব্য রাখেন শ্রমিক নেতা সেলিম আকবর, অ্যাডভোকেট মো. তারেক, জামায়াত নেতা সাহাব উদ্দিন, ঈদগাঁও প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক শেফাইল উদ্দিন, সাবেক ইউপি সদস্য নুরুল আজিম, দেলোয়ার হোসেন, ইউসুফ নবী, মাস্টার আবু তাহের, নিহতের চাচা মাস্টার মোস্তাক, মো. সেলিম কোম্পানি, নিহতের বাবা সোলাইমান, মা দিলদার বেগম, স্ত্রী জেসমিন ও মামা ইফতেখার মিল্টনসহ আরও অনেকে।
বক্তারা আরও অভিযোগ করেন, সেলিম বাবুকে অপহরণের পর একটি চিংড়ি ঘেরে নিয়ে কয়েক দফা নির্যাতন করা হয়। এ সময় তার স্ত্রীর কাছে ২ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় এবং টাকা দিতে না পারায় জোরপূর্বক খালি স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়া হয়।
উল্লেখ্য, গত ১৬ এপ্রিল দিবাগত রাত আনুমানিক ১১টার দিকে উপজেলার মধ্যম নাপিতখালী এলাকার বাসিন্দা সোলাইমান ড্রাইভারের ছেলে সেলিম বাবুকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে এবং পরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে ১২ দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে গত ২৮ এপ্রিল বিকেল ৩টা ৪৫ মিনিটে আইসিইউতে তার মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। অভিযুক্তরা আত্মগোপনে চলে গেছে বলে জানা গেছে। অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন স্থানীয় মেম্বার নূর মোহাম্মদ (৫৮), তার ছেলে আতা উল্লাহ (২৮), মোবারক (৩০), রমিজ (৩২), মনজুর আলম (৩৫), আবু নোমান (২৭) ও কালা বেলাল (৩২)।
এদিকে, গত ২৬ এপ্রিল নিহতের মা দিলদার বেগম বাদী হয়ে থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। এ বিষয়ে ঈদগাঁও থানার অফিসার ইনচার্জ এটিএম সিফাতুল মাজদার জানান, মামলা রেকর্ড করা হয়েছে এবং আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
মানববন্ধনে এলাকার সর্বস্তরের মানুষ অংশ নেন এবং দ্রুত বিচার নিশ্চিতের দাবি জানান।
